ডঃ খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর জীবনী

ড. খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর জীবনী

ড. খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর জীবনী

বাংলাদেশের আলেম সমাজের অন্যতম প্রথিতযশা এক অনন্য ব্যক্তিত্ব ছিলেন ডঃ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর। ইসলাম সম্পর্কে তাঁর সুগভীর পাণ্ডিত্য এবং জ্ঞানগর্ভ আলোচনার কারণে তিনি অতি অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশের সব ধরনের ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। কিন্তু যুগে যুগে বিখ্যাত ব্যক্তিরা ক্ষণজন্মা হয়ে থাকে। আর প্রকৃতির সেই আমক সত্যকে বাস্তবে রূপদান করে অতি অল্প সময়ের মধ্যেই আমাদের সবার মন জয় করে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন ডঃ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর। কিন্তু তিনি ইসলামের সেবায় তার অবিনশ্বর কীর্তির মাধ্যমে চিরজীবন আমাদের মনের মনিকোঠায় বসবাস করবেন। 

আজ আমরা তার জীবনীর বিভিন্ন বিষয়, যেমনঃ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর বই, আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর জন্ম, আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর পরিবার, আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর দাম্পত্য জীবন, আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর শিক্ষা, আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর মৃত্যু তারিখ, আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর মৃত্যু সাল ইত্যাদি সম্পর্কে জানবো।

ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর পারিবারিক জীবনঃ

ডঃ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর এর পুরো নাম হচ্ছে ডঃ খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর। তিনি একাধারে ছিলেন সুবক্তা, ইসলামী চিন্তাবিদ, অধ্যাপক, লেখক এবং টিভি আলোচক। তার পিতার নাম হচ্ছেন খন্দকার আনোয়ারুজ্জামান এবং মা হচ্ছেন বেগম লুৎফুন নাহার। তিনি ঝিনাইদাহের ধোপাঘাট অঞ্চলের গোবিন্দপুর গ্রামে ১৯৬১ সালের পহেলা ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেছিলেন। 

ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর দাম্পত্য জীবনঃ

ডঃ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর ব্যক্তিগত জীবনে ছিলেন বিবাহিত। তিনি ফুরফুরা শরীফের পীর আব্দুল কাহার সিদ্দিকের মেয়ে ফাতেমা সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের সংসারে তিনটি মেয়ে এবং একটি ছেলে রয়েছে। 

ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর শিক্ষা জীবনঃ

ছোটবেলা থেকে পড়াশোনা করেছেন ঢাকার সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা। এখান থেকেই পর্যায়ক্রমে দাখিল, আলিম, ফাজিল এবং ১৯৭৯ সালে হাদিস বিভাগে কামিল পাশ করেন। তারপর উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে চলে যান এবং তিনি সৌদি আরবের রিয়াদের মোহাম্মাদ বিন সাউদ  ইসলামী উচ্চ-বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স এবং মাস্টার্স পাশ করেন। ১৯৯৮ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। খুব ছোটবেলা থেকেই ডঃ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর পড়াশোনাতে ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। সৌদি আরবে পড়াশোনা করার সময়ও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। এখানে পড়ার সময় তিনি রিয়াদের তৎকালীন গভর্নরের কাছ থেকে দুইবার সেরা ছাত্রের পুরস্কার গ্রহন করেন। 

পড়াশুনা শেষে তিনি চাইলেই সৌদি থেকে যেতে পারতেন এবং দুহাত ভরে টাকা আয় করতে পারবেন। সে সময় তিনি অনেক ভালো ভালো চাকরির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন এবং আয়েশি এবং বিলাসী জীবনের হাতছানি কে উপেক্ষা করে দেশে ফিরে এসেছেন শুধুমাত্র ইসলামী জ্ঞান সবার মাঝে ছড়িয়ে দিয়ে ইসলামের সেবক হিসেবে সাদামাটা জীবনযাপন করতে। 

দেশে ফেরার পর তিনি ১৯৯৮ সালে  কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আল হাদিস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের লেকচারার হিসেবে যোগদান করেছিলেন। এখানে শিক্ষকতা করার সময় তিনি ১৯৯৯ সালে ইন্দোনেশিয়া থেকে ইসলামী উন্নয়ন ও আরবি ভাষা বিষয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। ২০০৯ সালে তিনি কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর পদে উন্নীত হন। এছাড়াও ঢাকার দারুসসালাম মাদ্রাসায় খন্ডকালীন শায়খুল হাদীস হিসেবে তিনি বুখারী শরীফের উপর পাঠ দান করতেন।

কর্মজীবনে তিনি শিক্ষকতার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গিয়ে ওয়াজ মাহফিলে ইসলামী আলোচনা করতেন। এছাড়াও বিভিন্ন টিভিতে আলোচনা ও ইসলামিক বই লেখালেখিতে তিনি তাঁর অধিকাংশ সময় ব্যয় করতেন। তিনি পীচ টিভি, ইসলামিক টিভি, এটিএন বাংলা, ই টিভিসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন চ্যানেলে ইসলামী আলোচনার অনুষ্ঠানে নিয়মিত আলোচনা করতেন। 


ডঃ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর তার বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনে অতি অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলা, ইংরেজি ও আরবি ভাষায় ইসলামী সমাজ সংস্কার গবেষণা ও শিক্ষামূলক প্রায় ৫০ টিরও অধিক গ্রন্থ রচনা করেছেন। এই গ্রন্থ গুলির মধ্যে আরবি ভাষায় রচিত তার বিশেষ একটি গ্রন্থ হচ্ছে  আদাবুল হাদিস, যেটি ২০০৭ সালে প্রকাশিত হয়। এছাড়াও তিনি ইংরেজি ভাষায় রচনা করেছেন A Woman From Desert, Guidance For Fasting Muslims, A Summary Of Three Fundamentals of Islam.

বাংলা ভাষায় রচিত গ্রন্থ গুলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে রাহে বেলায়াত, আল ফিকহুল আকবর, খুতবাতুল ইসলাম, সালাতের মধ্যে হাত বাধার বিধান, সহী মাসনুন অযীফা, আল্লাহর পথে দাওয়াত, কোরবানী জবিহুল্লাহ, হাদীসের নামে জালিয়াত, ইসলামের নামে জঙ্গিবাদ, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে পোশাক, রোজা, ইসলামের তিন মূলনীতি ইত্যাদি।

অবশেষে বাংলাদেশের প্রথিতযশা ইসলামিক পণ্ডিত ব্যক্তিত্ব ২০১৬ সালের ১১ মে এক সড়ক দুর্ঘটনায় ইন্তেকাল করেন। আল্লাহ্‌ তায়ালা ইসলামের এই মহান জ্ঞানসাধককে তার মৃত্যু পরবর্তী জীবনের জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন।

বিঃ দ্রঃ প্রতিটি লিখা অনেক কষ্ট করে লিখি তাই দয়া করে শেয়ার করে মানুষের নিকট পৌঁছে দিন এবং তার জীবনী সম্পর্কে জানার সুযোগ দিন । আল্লাহ্‌ সর্বশক্তিমান।

ইসলামিক ব্লগঃ এখানে ক্লিক করুনইসলামিক প্রশ্ন/উত্তরঃ এখানে ক্লিক করুন

আরও পড়ুনঃ আমির হামজা ওয়াজ

ড. খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর জীবনী ইংরেজিতেঃ –  Dr. Abdullah Jahangir Biography


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *